রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে হামে আক্রান্ত যে চার শিশুকে গত বৃহস্পতিবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের তিনজনই মারা গেছে। বেঁচে থাকা শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আজ শনিবার বিকেলে আইসিইউয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আজ আরও তিন শিশুকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

চলতি মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউয়ে নেওয়ার পরেও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সাধারণ ওয়ার্ডের কোনো খবর জানা যায়নি।

পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি খারাপ। পাবনা সদর হাসপাতালে আজ ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। আলাদা ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাবনায় মৃত্যুর তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

হাবিবুর রহমান, পরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট মাহফুজ রায়হান জানান, আজ সকালে ৭০ শিশু হাম ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। বিকেলে ছুটি দেওয়ার পর প্রায় ৫০ শিশু ছিল। তিন মাসে চারজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে চলতি মাসেই দুজন মারা যায়। তিন মাস ধরে তাঁরা আলাদা ওয়ার্ডে রেখে শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত যে চার শিশুকে বৃহস্পতিবার আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে জহির ও হুমায়রা গতকাল শুক্রবার সকালে মারা গেছে। আরেক শিশু হিয়ার খোঁজ নিতে তার বাবা রিফাতকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আর খোঁজ নিয়ে কী হবে ভাই, যার খোঁজ নেওয়া, সেই তো আর নাই।’ অন্য শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা হৃদয় আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মেয়েকে আজ আইসিইউয়ে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *